বড়াল পদবি/পারিবারিক নাম/উপাধি যুক্ত ব্যাক্তিদের বর্ণ কি?

বর্ণ ব্যবস্থা হলো হিন্দুদের সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস। বর্ণ চারটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত: ব্রাহ্মণ (পুরোহিত), ক্ষত্রিয় (যোদ্ধা), বৈশ্য (ব্যবসায়ী, বণিক) এবং শূদ্র (শ্রমিক)। এটি পেশা এবং জন্মের ভিত্তিতে গঠিত। তবে আধুনিক সময়ে এর প্রাসঙ্গিকতা হ্রাস পেয়েছে। বড়াল উপাধি যুক্ত ব্যাক্তিরা যেহেতু বাংলা ও এর আশেপাশের অঞ্চলে বাস করেন, তাই তাদের জাতি/গোষ্ঠী সম্ভবত সুবর্ণ বণিক এবং সাধারণত সোনা ও রূপার ব্যবসায় জড়িত। প্রচলিত বর্ণ ব্যবস্থায় ব্যবসায়ীদের বৈশ্য শ্রেণিতে ফেলা হয়। কেউ কেউ দাবি করেন যে বড়াল পরিবারগুলোর মূলত ব্রাহ্মণ ছিল, কিন্তু ১২শ শতকে রাজা বল্লাল সেন তাদের ব্রাহ্মণত্ব থেকে বঞ্চিত করেছিলেন।

প্রচলিত ভার্না ব্যবস্থায়, যেমন মনুস্মৃতি ও ঋগ্বেদের মতো গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, বৈশ্য শ্রেণিতে কৃষক, চাষী এবং ব্যবসায়ীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা তৃতীয় ভার্না হিসেবে বিবেচিত হয়।  ব্রিটানিকার Varna নিবন্ধ এই শ্রেণিবিন্যাস সমর্থন করে। যেহেতু সুর্ণ বণিকরা মূলত ব্যবসায়ী শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, গবেষণা বলছে তারা প্রচলিত ব্যবস্থায় বৈশ্য ভার্নার অন্তর্গত।

বাংলার বর্ণ ব্যবস্থায় কিছু বিচ্যুতি যেমনঃ বাংলাপিডিয়ার Caste System নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পাঠ্যে বলা হয়েছে যে বাংলায় কৃষি, বাণিজ্য, কারুশিল্প এবং পরিষেবা জাতিগুলিকে প্রায়শই শূদ্র হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এটি জটিলতা তৈরি করে, কারণ বাংলাপিডিয়ার Banik নিবন্ধ অনুযায়ী বণিকরা (সুব র্ণ বণিক সহ) বৈশ্যের একটি উপ-গোষ্ঠী হিসেবে গণ্য হয়।

১৮টি উপপুরাণের একটি, বৃহদ্ধর্ম পুরাণ সুবর্ণ বণিকদের মধ্যম স্তরের শূদ্র হিসাবে বর্ণনা করেছে, যা বৈশ্য শ্রেণিবিন্যাসের সাথে বৈপরীত্য সৃষ্টি করে। উল্লেখ্যঃ বৃহদ্ধর্ম পুরাণ শুধুমাত্র ব্রাহ্মণ ও শুদ্র সম্পর্কে আলোচনা করে ও এর মধ্যবর্তী দুটি বর্ণের কথা উল্লেখ করে না। 

১৬শ শতাব্দিতে রচিত বল্লালচরিত তথ্যানুসারে, রাজা বল্লাল সেন তাদের মর্যাদা হ্রাস করে শুদ্র করেছিলেন কারণ সুবর্ণ বণিকরা রাজাকে স্বর্ণ ও মুদ্রা ধার দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।আবার, একটি কোয়োরা পোস্ট (Quora: Is Baral from Bengal (India), Bangladesh are Brahmins?) দাবি করে যে বড়ালরা মূলত ব্রাহ্মণ ছিলেন, কিন্তু ১২শ শতকে রাজা বল্লাল সেন তাদের আর্থিক সহায়তা দিতে অস্বীকার করায় তাদের ব্রাহ্মণত্ব কেড়ে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তারা আবার ব্রাহ্মণ মর্যাদা ফিরে পায়। ঐতিহাসিক রেকর্ড, যেমন "History Of The Vaisyas Of Bengal" (Archive.org: History Of The Vaisyas Of Bengal) গ্রন্থের উদ্ধৃতাংশ, বল্লাল সেনের বণিকদের প্রতি নির্যাতনের কথা নিশ্চিত করে। 

আধুনিক সময়ে, বর্ণ ব্যবস্থার কঠোরতা হ্রাস পেয়েছে, এবং অনেকে তাদের প্রচলিত বর্ণের সাথে  নিজেদের কঠোরভাবে সংযুক্ত করেন না। তবে, পেশার ভিত্তিতে বিচার করলে, সুবর্ণ বণিকদের বাণিজ্যিক ভূমিকা বৈশ্য শ্রেণির দিকেই ইঙ্গিত করে। বিভিন্ন প্রমাণ অনুযায়ী, যদিও বাংলার আঞ্চলিক শ্রেণিবিন্যাসে তাদের শূদ্র হিসাবে বিবেচনা করা হতে পারে, প্রচলিত ব্যবস্থা এবং বাংলাপিডিয়ার Banik নিবন্ধে বণিকদের বৈশ্যের উপগোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করায় এটি বৈশ্য শ্রেণির পক্ষে যুক্তি প্রদান করে।Indpaedia: Subarna Banik অনুসারে সুবর্ণ বণিকরা ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত তালিকাভুক্ত করেছে।

বর্ণ শ্রেণিবিন্যাস তুলনা

বর্ণ শ্রেণিবিন্যাস তুলনা

জাতি/গোষ্ঠী প্রচলিত বর্ণ বাংলার শ্রেণিবিন্যাস মন্তব্য
সুবর্ণ বণিক বৈশ্য শূদ্র (কিছু গ্রন্থ অনুযায়ী) ব্যবসায়ী, সোনা/রূপার ব্যবসার সাথে যুক্ত; বৃহদ্ধর্ম পুরাণ অনুযায়ী শূদ্র বর্ণেে।
বণিক (সাধারণ) বৈশ্য বৈশ্য উপ-গোষ্ঠী সুবর্ণ বণিকদের অন্তর্ভুক্ত; বণিক ও ব্যবসায়ীদের শ্রেণিভুক্ত, বাংলাপিডিয়ার মতে।
ব্রাহ্মণ ব্রাহ্মণ বর্ণশ্রেষ্ঠ সর্বোচ্চ বর্ণ, পুরোহিত, বাংলায় বড়ালদের সাথে কোনো সংযোগ নেই।
বড়াল (নেপাল) ব্রাহ্মণ প্রযোজ্য নয় নেপালে বহুন (ব্রাহ্মণ) জাতির সাথে যুক্ত, এখানে প্রাসঙ্গিক নয়।

Comments